Saturday, January 19, 2019

ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সমুদ্রসৈকতের কাটা পা


ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সমুদ্রসৈকতের কাটা পা: এই সমুদ্রসৈকতে প্রায়শই ভেসে আসে মানুষের পায়ের কাটা নিম্নাংশ। কাদের পা, কোথা থেকে আসে তা কেউ জানে না। নিয়ে অনেক গবেষণাও হয়েছে কিন্তু ফলাফল শূন্য। ফলে কাটা পায়ের নিম্নাংশের রহস্য আজো উদঘাটন হয়নি।

Sunday, January 13, 2019

নাজকা লাইন




নাজকা লাইন হলো পেরুর প্রাচীন ইনকা সভ্যতার নিদর্শন কিন্তু বিশাল এলাকা জুড়ে আঁকা এসব রেখাচিত্র কি সেই প্রাচীন মানুষের পক্ষে এঁকে রাখা সম্ভব? এই রেখাচিত্র কারা তৈরি করলো, কেনই বা করলো সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য আজও অজানা কেউ বলেন এগুলো হলো ইনকাদের স্বর্গীয় পঞ্জিকা কেউ বলেন ইনকাদের দেবতাদের নিদর্শন এই বিশাল চিত্র আবার কারও কারও মতে, এগুলো হলো এলিয়েনদের মহাকাশযান অবতরণের স্থান

nazca-lines..খ্রিস্টপূর্ব ২০০ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের মাঝে কোনও এক সময়ে এই রেখাচিত্র তৈরি করা হয় শুধু ইনকা সভ্যতাই নয়, এমন রহস্যময় রেখাচিত্র রয়েছে মিশর, মাল্টা, আমেরিকার মিসিসিপি এবং ক্যালিফোর্নিয়া, চিলি, বলিভিয়া এবং অন্যান্য দেশেও কিন্তু নাজকায় এসব রেখাচিত্র এত বড়, বিচিত্র এবং এত বেশী সংখ্যায় রয়েছে যে তা স্বাভাবিকভাবেই আকৃষ্ট করে বিভিন্ন ধারার গবেষকদের নাজকা এবং পালপা নগরীর মাঝে অবস্থিত এই ৪০০ বর্গমাইল মরু এলাকা জুড়ে রয়েছে তিন শতাধিক রেখাচিত্র যাতে ব্যবহৃত হয়েছে সরলরেখা এবং বিভিন্ন জ্যামিতিক আকৃতি যা মাটি থেকে বোঝা না গেলেও আকাশ থেকে স্পষ্ট দেখা যায় ১৯২০ সালে পেরুর মরুভূমির ওপর দিয়ে বিমান চলাচল করতে শুরু করে তখন থেকেই এসব রেখাচিত্র মানুষের চোখে পড়া শুরু করে বিমানের যাত্রীরা বলেন তারা এই মরুভূমির ভেতরে নাকি ল্যান্ডিং স্ট্রিপ এর মতো আকৃতি আঁকা দেখতে পান

আশ্চর্য ভাবেই বর্তমানে বন্যা, বিদ্যুতের পাওয়ার লাইন ইত্যাদির কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই এলাকাতবুও ঠিক একই রূপ আছে পেরুর এই নাজকা লাইন

Saturday, January 12, 2019

ম্যাকেঞ্জি ভূত


এডিনবরোর ব্ল্যাক মসোলিয়াম হল স্যার জর্জ ম্যাকেঞ্জির সমাধি। এখানে যে সব পর্যটকরা ঢোকেন, তাদের অনেকেরই গায়ে পড়ে অদ্ভুত আঁচড়। এই আঁচড়ের রহস্য ভেদ করা যায়নি।
অ্যাটলান্টিসের হারানো শহর:
প্লেটোর ‘টিম্যাউস’ এবং ‘ক্রিটিয়াস’ বইতে উল্লেখ রয়েছে অ্যাটলান্টিস বলে এক শহরের। সেই শহর আজ কোথায় গেল? তা কি সমুদ্রের তলায় হারিয়ে গেল সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। এ নিয়ে অনেক অনুসন্ধানও চালিয়েছেন গবেষকরা কিন্তু রহস্য উদঘাটন হয়নি আজো।
আইয়ুদের অ্যালুমিনিয়াম গোঁজ:
১৯৭৪ সালে রোমানিয়ায় আবিষ্কৃত হয় ২৫ লক্ষ বছর আগের একটি গোঁজ। গোঁজটিতে অ্যালুমিনিয়ামের চিহ্ন পাওয়া যায়। কিন্তু সেসময় অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার ছিল অজানা। সেসময় কোথায় থেকে এ গোঁজ আনা হয়েছে সেটি আজো উদঘাটন হয়নি।
এসএস ঔরাঙ্গমেডাং অন্তর্ধান রহস্য:
১৯৪৭ সালে মালয়েশিয়ার এই জাহাজ আকস্মিক ভাবেই সমুদ্রপথে হারিয়ে যায়। সেই জাহাজ কোথায় হারিয়ে গেল জানা যায় না আজও। এমনকি কখনো এ জাহাজের সন্ধান পাওয়া যাবে কিনা সেটিও বলতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।
নাজকা লিপি:
প্রাচীন নাজকা সভ্যতার মানুষজন মাটির বিরাট অংশ জুড়ে এঁকে গেছেন মাকড়সা, হনুমান, হাঙর আর ফুলের ছবি। যেগুলোর প্রকৃত আকৃতি একমাত্র বিমান থেকে দেখলেই বোঝা যায়। সেসময় কীভাবে তারা এসব ছবি একেছিলেন সে রহস্য আজো উদঘাটন হয়নি।
লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুরহস্য:
১৯৬৬ সালে তাসখন্দে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু এক রহস্যময় বিষয়। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি আজো রসহস্যময়।
ডিবি কুপার:
একটি বোয়িং ৭২৭ বিমান হাইজ্যাক করার পর মাঝআকাশে দুই লাখ ডলার সমেত প্যারাশুট নিয়ে প্লেন থেকে ঝাঁপ দেন কুপার। তার পর কী হল, কোথায় গেলেন তিনি, সে রহস্য আজো অজানা। ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর পোর্টল্যান্ড এবং সিয়াটলের মধ্য আকাশে এ ঘটনা ঘটেছিল। উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের অভিযোগে আজও তাকে খুঁজছে মার্কিন গোয়েন্দারা।
ওয়াও’ সঙ্কেত:
ওহিও বিশ্ববিদ্যালয়ে আকাশ নিরীক্ষণ কেন্দ্রে কর্মরত জেরি এমান স্যাজিটেরিয়াস তারকাপুঞ্জ থেকে হঠাৎ এক অদ্ভুত বেতার বার্তা পেয়েছিলেন। সেই বার্তার অর্থ আজও অজানা। বিজ্ঞানীরাও এ বার্তার অর্থ উদঘাটন করতে পারেনি।
ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সমুদ্রসৈকতের কাটা পা:
এই সমুদ্রসৈকতে প্রায়শই ভেসে আসে মানুষের পায়ের কাটা নিম্নাংশ। কাদের পা, কোথা থেকে আসে তা কেউ জানে না। এ নিয়ে অনেক গবেষণাও হয়েছে কিন্তু ফলাফল শূন্য। ফলে কাটা পায়ের নিম্নাংশের রহস্য আজো উদঘাটন হয়নি।

বিশ্বনবীর লাশ চুরি ও ইহুদী চক্রান্ত

হিজরী ৫৫৭ সালের একরাতের ঘটনা।
সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ মুনাজাতের পর ঘুমিয়ে পড়েছেন। চারিদিক নিরব নিস্তব্দ। কোথাও কোন সাড়া-শব্দ নেই। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি স্বপ্নে দেখলেন স্বয়ং রাসুল (স) তার কামরায় উপস্থিত। তিনি কোন ভূমিকা ছাড়াই দু’জন নীল চক্ষু বিশিষ্ট লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! (এরা আমাকে বিরক্ত করছে), এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এই ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গোটা কক্ষময় পায়চারি করতে লাগলেন। সাথে সাথে তার মাথায় বিভিন্ন প্রকার চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল। হৃদয় রাজ্যে ভীড় জমাল হাজারও রকমের প্রশ্ন। তিনি ভাবলেন- আল্লাহর রাসূল তো এখন কবরে জীবনে! তার সাথে অভিশপ্ত ইহুদীরা এমন কী ষড়যন্ত্র করতে পারে? কী হতে পারে তাদের চক্রান্তের স্বরুপ? তারা কি রাসূল (স)-এর কোন ক্ষতি করতে চায়? চায় কি পর জীবনেও তার সাথে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হতে? আমাকে দু’জন ইহুদীর চেহারা দেখানো হল কেন? শয়তান তো আল্লাহর নবীর অবয়বে আসতে পারে না। তাহলে কি আমি সত্য স্বপ্ন দেখেছি? এসব ভাবতে ভাবতে সুলতান অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি অজু-গোসল সেরে তাড়াতাড়ি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। তারপর মহান আল্লাহর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় অনেকক্ষণ মুনাজাত করলেন। সুলতানের এমন কেউ ছিল না যার সাথে তিনি পরামর্শ করবেন। আবার এ স্বপ্নও এমন নয় যে, যার তার কাছে ব্যক্ত করবেন। অবশেষে আবারও তিনি শয়ন করলেন। দীর্ঘ সময় পর যখনই তার একটু ঘুমের ভাব এলো, সঙ্গে সঙ্গে এবারও তিনি প্রথম বারেরন্যায় নবী করীম (সা)কে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি তাকে পূর্বের ন্যায় বলছেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর। এবার নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) “আল্লাহ্, আল্লাহ্” বলতে বলতে বিছানা থেকে উঠে বসলেন। তারপর কোথায় যাবেন, কী করবেন কিছুই ঠিক করতে পা পেরে দ্রুত অজু-গোসল শেষ করে মুসল্লায় দাড়িয়ে অত্যধিক ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দু’রাকাত নামায আদায় করলেন এবং দীর্ঘ সময় অশ্রু সিক্ত নয়নে দোয়া করলেন। রাতের অনেক অংশ এখনও বাকী। সমগ্র পৃথিবী যেন কি এক বিপদের সম্মুখীন হয়ে নিঝুম হয়ে আছে। কী এক মহা বিপর্যয় যেন পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হতে যাচ্ছে । কঠিন বিপদের ঘনঘটা যেন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি মুখ তুলে আকাশ পানে তাকালেন। মনে হলো স্বপ্ন দেখা ঐ দু’জন লোক যেন তাকে ধরার জন্য দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে। তিনি সেই চেহারা দুটোকে মনের মনিকোষ্ঠা থেকে সরাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হল না। শেষ পর্যন্তু নিরুপায় হয়ে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) চোখ বন্ধ করে আবারও তন্দ্রা-বিভোর হয়ে শুয়ে পড়লেন। শোয়ার পর তৃতীয়বারও তিনি একই ধরনের স্বপ্ন দেখলেন। রাসূল (সা)-এর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ক্রন্দনরত অবস্থায় বিছানা পরিত্যাগ করলেন। এবার তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, নিশ্চয়ই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক কোন না মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি তড়িৎ গতিতে অজু-গোসল করে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষে প্রধানমন্ত্রী জালালুদ্দীন মৌশুলীর নিকট গিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্বপ্নের বিবরণ শুনালেন এবং এ মুহূর্তে কী করা যায়, এ ব্যাপারে সুচিন্তিত পরামর্শ চাইলেন। জালালুদ্দীন মৌশুলী স্বপ্নের বৃত্তান্ত অবগত হয়ে বললে, “হুজুর! আপনি এখনও বসে আছেন? নিশ্চয়ই প্রিয় নবীর রওজা মোবারক কোন কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তাই এ বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য বারবার তিনি আপনাকে স্মরণ করছেন। অতএব,আমার পরামর্শ হল, সময় নষ্ট না করে অতিসত্তর মদীনার পথে অগ্রসর হোন।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) আর কালবিলম্ব করলেন না। তিনি ষোল হাজার দ্রুতগামী অশ্রারোহী সৈন্য এবং বিপুল ধন সম্পদ নিয়ে বাগদাদ থেকে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। রাত দিন সফর করে ১৭তম দিনে মদিনা শরীফে পৌঁছলেন এবং সৈন্য বাহিনীসহ গোছল ও অজু সেরে দু’ রাকাত নফল নামাজান্তে দীর্ঘ সময় ধরে মোনাজাত করলেন। তারপর সৈন্য বাহিনী দ্বারা মদিনা ঘেরাও করে ফেললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আদেশ জারী করে দিলেন যে, বাইরের লোক মদিনায় আসতে পারবে, কিন্তু সাবধান! মদিনা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবে না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) জুম্মার খোৎবা দান করলেন এবং ঘোষণা দিলেন, “আমি মদিনাবাসীকে দাওয়াত দিয়ে এক বেলা খানা খাওয়াতে চাই। আমার অভিলাষ, সকলেই যেন এই দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করে।” সুলতান মদিনাবাসীকে আপ্যায়নের জন্য বিশাল আয়োজন করলেন এবং প্রত্যেকের নিকট অনুরোধ করলেন, মদিনার কোন লোক যেন এই দাওয়াত থেকে বঞ্চিত না হয়। নির্ধারিত সময়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু হল। প্রত্যেকেই তৃপ্তিসহকারে খানা খেল। যারা দুরদুরান্ত থেকে আসতে পারেনি তাদেরকেও শেষ পর্যন্ত ঘোড়া ও গাধার পিঠে চড়িয়ে আনা হল। এভাবে প্রায় পনের দিন পর্যন্ত অগণিথ লোক শাহী দাওয়াতে শরিক হওয়ার পর সুলতান জিজ্ঞাসা করলেন আরও কেউ অবশিষ্ট আছে কি? থাকলে তাদেরকেও ডেকে আন। এই নির্দেশের পর সুলতান বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হলেন যে, আর কোন লোক দাওয়াতে আসতে বাকী নেই। একথা শুনে তিনি সীমাহীন অস্থির হয়ে পড়লেন। চিন্তার অথৈই সাগরে হারিয়ে গেলেন তিনি। ভাবলেন, যদি আর কোন লোক দাওয়াতে শরীক হতে বাকী না থাকে তাহলে সেই অভিশপ্ত লোক দু’জন গেল কোথায়? আমি তো দাওয়াতে শরীক হওয়া প্রতিটি লোককেই অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কিন্তু কারও চেহারাইতো স্বপ্নে দেখা লোক দুটোর চেহারার সাথে মিলল না, তাহলে কি আমার মিশন ব্যর্থ হবে?আমি কি ঐ কুচক্রী লোক দুটোকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে সক্ষম হব না? এসব চিন্তায় বেশ কিছুক্ষণ তিনি ডুবে রইলেন। তারপর আবারও তিনি নতুন করে ঘোষণা করলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মদিনার সকল লোকদের দাওয়াত খাওয়া এখনও শেষ হয়নি। অতএব সবাইকে আবারও অনুরোধ করা যাচ্ছে, যারা এখনও আসেনি তাদেরকে যেন অনুসন্ধান করে দাওয়াতে শরীক করা হয়। একথা শ্রবণে মদিনাবাসী সকলেই এক বাক্যে বলে উঠল, “হুজুর! মদিনার আশে পাশে এমন কোন লোক বাকী নেই, যারা আপনার দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করেনি।” তখন নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বলিষ্ঠ কন্ঠে বললেন, “আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। আপনারা ভাল ভাবে অনুসন্ধান করুন।” সুলতানের এই দৃঢ়তা দেখে লক্ষাধিক জনতার মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ করে বলে উঠল, “হুজুর! আমার জানামতে দু’জন লোক সম্ভবত এখনও বাকী আছে। তারা আল্লাহ্‌ওয়ালা বুযুর্গ মানুষ। জীবনে কখনও কারও কাছ থেকে হাদীয়া তোহফা গ্রহণ করেন না,এমনকি কারও দাওয়াতেও শরীক হন না। তারা নিজেরাই লোকদেরকে অনেক দান-খয়রাত করে থাকেন। নীরবতাই অধিক পছন্দ করেন। লোক সমাজে উপস্থিত হওয়া মোটেও ভালবাসেন না।” লোকটির বক্তব্য শুনে সুলতানের চেহারায় একটি বিদ্যুত চমক খেলে গেল। তিনি কাল বিলম্ব না করে কয়েকজন লোক সহকারে ঐ লোক দুটোর আবাসস্থলে উপস্থিত হলেন। তিনি দেখলেন, এতো সেই দু’জন, যাদেরকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল। তাদেরকে দেখেসুলতানের দু’চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তোমরা? কোথা থেকে এসেছ? তোমরা সুলতানের দাওয়াতে শরীক হলে না কেন?” লোক দুটো নিজের পরিচয় গোপন করে বলল, “আমরা মুসাফির। হজ্বের উদ্দেশ্য এসেছিলাম। হজ্ব কার্য সমাধা করে জিয়ারতের নিয়তে রওজা শরীকে এসেছি। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমে আত্মহারা হয়ে ফিরে যেতে মনে চাইল না। তাই বাকী জীবন রওজার পাশে কাটিয়ে দেওয়ার নিয়তেই এখানে রয়ে গেছি। আমরা কারও দাওয়াত গ্রহণ করি না। এক আল্লাহর উপরই আমাদের পূর্ণ আস্থা। আমরা তারই উপর নির্ভরশীল। এবাদত, রিয়াজত ও পরকালের চিন্তায় বিভোর থাকাই আমাদের কাজ। কুরআন পাক তিলাওয়াত, নফল নামায ও অজিফা পাঠেই আমাদের সময় শেষ হয়ে যায়। সুতরাং দাওয়াত খাওয়ার সময়টা কোথায়?” উপস্থিত জনগণ তাদের পক্ষ হয়ে বলল যে, “হুজুর! এরা দীর্ঘদিন যাবত এখানে অবস্থান করছে। এদের মত ভাল লোক আর হয় না। সব সময় দরিদ্র, এতিম ও অসহায় লোকদের প্রচুর পরিমাণে সাহায্য করে। তাদের দানের উপর অত্র লোকদের প্রচুর পরিমাণে জীবিকা নির্ভর করে।” নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) লোকদের কথা শুনে লোক দুটোর প্রতি পুনরায় গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলেন। এতে আবারও তিনি নিশ্চিত হলেন, এরা তারাই যাদেরকে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন। এবার সুলতান জলদ গম্ভীর স্বরে তাদেরকে বললেন, “সত্য কথা বল। তোমরা কে? কেন, কী উদ্দেশ্যে এখানে থাকছ?” এবারও তারা পূর্বের কথা পুনরাবৃত্তি করে বলল, “আমরা পশ্চিম দেশ থেকে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্য এখানে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নৈকট্য লাভই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যেই আমরা এখানে অবস্থান করছি।” সুলতান এবার কারও কথায় কান না দিয়ে তাদেরকে সেখানে আটক রাখার নির্দেশ দিলেন, অত:পর স্বয়ং তাদের থাকার জায়গায় গিয়ে খুব ভাল করে অনুসন্ধাণ চালালেন। সেখানে অনেক মাল সম্পদ পাওয়া গেল। পাওয়া গেল বহু দুর্লভ কিতাবপত্র। কিন্তু এমন কোন জিনিষ পাওয়া গেল না, যদ্বারা স্বপ্নের বিষয়ে কোন প্রকার সহায়তা হয়। নূরুদ্দীন জাঙ্কি(র:) অত্যধিক পেরেশান, অস্থির। এখনও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তিনি সীমাহীন চিন্তিত। এদিকে মদীনায় বহু লোক তাদের জন্য সুপারিশ করছে। তারা আবারও বলছে, “হুজুর! এরা নেককার বুযুর্গ লোক। দিনভর রোজা রাখেন। রাতের অধিকাংশ সময় ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই রওজা শরীফের নিকটে এসি আদায় করেন। প্রতিদিন নিয়মিত জান্নাতুল বাকী যিয়ারত করতে যান। প্রতি শনিবার মসজিদুল কোবাতে গমন করেন। কেউ কিছু চাইলে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।” সুলতান তাদের অবস্থা শুনে সীমাহীন আশ্চর্যবোধ করলেন। তথাপি তিনি হাল ছাড়ছেন না। কক্ষের অংশে অনুসন্ধানী দৃষ্টি ফিরিয়ে যাচ্ছেন। ঘরের প্রতিটি বস্তুকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু সন্দেহ করার মত কিছুই তিনি পাচ্ছেন না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) এক পর্যায়ে সঙ্গীদের বললেন- “আচ্ছা, তাদের নামাযের মুসাল্লাটা একটু উঠাও দেখি।” সঙ্গীরা নির্দেশ পালন করল। নামাযের মুসল্লাটি বিছানো ছিল একটি চাটাইয়ের উপর। সুলতান আবার নির্দেশ দিলেন, “চাটাইটিও সরিয়ে ফেল।” চাটাই সরানোর পর দেখা গেল একখানা বিশাল পাথর। সুলতারেন নির্দেশে তাও সরানো হল। এবার পাওয়া গেল এমন একটি সুরঙ্গপথ যা বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে। এমনকি তা পৌছে গেছে, রওজা শরীফের অতি সন্নিকটে। এ দৃশ্য অবলোকন করা মাত্র নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বিজলী আহতের ন্যায় চমকে উঠলেন। অস্থিরতার কালো মেঘ ছেয়ে যায় তার সমস্ত হৃদয় আকাশে। ক্রোধে লাল হয়ে যায় গোটা মুখমন্ডল। অবশেষে লোক দুটোকে লক্ষ্য করে ক্ষিপ্ত-ক্রদ্ধ সিংহের ন্যায় গর্জন করে ঝাঁঝাঁলো কন্ঠে বললেন- “তোমরা পরিস্কার ভাষায় সত্যি কথাটা খুলে বল, নইলে এক্ষুনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুক্ষিন হতে হবে। বল, তোমরা কে? তোমাদরে আসল পরিচয় কী? কারা, কী উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে?” সুলতানের কথায় তারা ঘাবড়ে গেল। কঠিন বিপদ সামনে দেখে আসল পরিচয় প্রকাশ করে বলল,- “আমরা ইহুদী। দীর্ঘদিন যাবত আমাদেরকে মুসল শহরের ইহুদীরা সুদক্ষ কর্মী দ্বারা প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রচুর অর্থ সহকারে এখানে পাঠিয়েছে। আমাদেরকে এজন্য পাঠানো হয়েছে যে, আমরা যেন কোন উপায়ে মুহাম্মদ (স)-এর শবদেহ বের করে ইউরোপীয় ইহুদীদের হাতে হস্তান্তর করি। এই দুরূহ কাজে সফল হলে তারা আমাদেরকে আরও ধনসম্পদ দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুলতান বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলে? কিভাবে তোমরা কাজ করতে?” তারা বলল, “আমাদের নিয়মিত কাজ ছিল, রাত গভীর হলে অল্প পরিমাণ সুড়ঙ্গ খনন করা এবং সাথে ঐ মাটিগুলো চামড়ার মজকে ভর্তি করে অতি সন্তর্পণে মদীনার বাইরে নিয়ে ফেলে আসা। আজ দীর্ঘ তিন বৎসর যাবত এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজে আমরা অনবরত ব্যস্ত আছি। যে সময় আমরা রওজা মোবারকের নিকট পৌছে গেলাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম যে, এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বনবীর লাশ বের করে নিয়ে যাব, ঠিক সে সময় ধরে আমাদের মনে হল, আকাশ যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। জমীন যেন প্রচন্ড ভূমিকম্পে থরথর করে কাঁপছে। যেন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মহাপ্রলয় সংঘটিত হচ্ছে। অবস্থা এতাটাই শোচনীয় রূপ ধারণ করল, মনে হল সুড়ঙ্গের ভিতরেই যেন আমরা সমাধিস্থ হয়ে পড়ব। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে আমরা কাজ বন্ধ করে রেখেছি।” তাদের বক্তব্যে সুলতানের নিকট সব কিছুই পরিস্কার হয়ে গেল। তাই তিনি লোক দুটোকে নযীর বিহীন শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন । যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন দু:সাহস দেখাতে না পারে। তিনি মসজিদ হতে অর্ধ মাইল দূরে একটি বিশাল ময়দানে বিশ তাহ উঁচু একটি কাঠের মঞ্চ তৈরী করলেন। সাথে সাথে সংবাদ পাঠিয়ে মদীনা ও মদীনার আশেপাশের লোকদেরকে উক্ত ময়দানে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ লক্ষ লোক উক্ত মাঠে সমবেত হল। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অপরাধী লোক দুটোকে লৌহ শিকলে আবদ্ধ করে মঞ্চের উপর বসালেন । তারপর বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে তাদের হীন চক্রান্ত ও ঘৃণ্য তৎপরতার কথা উল্লেখ করলেন। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) -এর বক্তব্য শ্রবণ করে লোকজন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তারা এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করল। সুলতান বললেন- হ্যাঁ, এদের শাস্তি দৃষ্টান্তমূলকই হবে। তিনি লোকদেরকে বিপুল পরিমাণ লাকড়ী সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তারপর লক্ষ জনতার সামনে সেই ইহুদী দুটোকে মঞ্চের নিম্নভাগে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ভস্ম করে ফেলেন। কোন কোন বর্ণনায় আছে, সেই আগুন নাকি দীর্ঘ এগার দিন পর্যন্ত জ্বলছিল। অত:পর তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এক হাজার মন সিসা গলিয়ে রওজা শরীফের চতুষ্পার্শে মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে দেন। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ প্রিয় নবীজির কবর পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম না হয়। তারপর তিনি কায়মনোবাক্যে আল্লাহ্‌পাকের শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তাকে যে এত বড় খেদমতের জন্য কবুল করা হল সেজন্য সপ্তাহকাল ব্যাপী আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিলেন। ইতিহাসের পাতা থেকে অবগত হওয়া যায় যে, নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ইন্তিকাল করলে অসীয়ত মোতাবেক তার লাশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের অতি নিকটে দাফন করা হয়। 

বিখ্যাত পাঁচ ব্যক্তির মৃতদেহ চুরি হওয়ার গল্প


মাইকেল জ্যাকসন মারা যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন, জ্যাকসনের মৃতদেহ দাফন করা হবে ফরেস্ট লন মেমোরিয়াল পার্কের অভ্যন্তরে। ব্যক্তিগত, সুরক্ষিত এই সমাধিসৌধটিতে আরও অসংখ্য বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ, অভিনেতাসহ যশস্বী ব্যক্তিরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। শুনতে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও, মাইকেল জ্যাকসনের জন্য এই সমাধিক্ষেত্রটি পছন্দ করার পেছনে মূল কারণ ছিল মৃতদেহটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অতীতে বেশ কয়েকবার বিখ্যাত ব্যক্তিদের মৃতদেহ চুরি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবী করেছিল কবর চোররা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মাইকেল জ্যাকসনের বেলায় বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়। এবার তাহলে ফিরে দেখা যাক, অতীতে কোন কোন বিখ্যাত ব্যক্তিদের মৃতদেহ চুরি হয়েছিল।

. চার্লি চ্যাপলিন
নির্বাক যুগ মাতিয়ে রাখা অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনকে দর্শকরা তারলিটল ট্র্যাম্পচরিত্রটির জন্য নিশ্চয়ই আরও কয়েকশো বছর মনে রাখবে। ১৯৭৭ সালের বড়দিনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কালজয়ী এই ব্যক্তি। মারা যাওয়ার পরপরই ৩০০ পাউন্ড ওজনের ওক কাঠের কফিনে করে সুইজারল্যান্ডের কোরসিয়ার গ্রামে শেষ বিদায় জানানো হয় তাকে। কিন্তু ১৯৭৮ সালের মার্চের তারিখে তার মৃতদেহ চুরি করে কবর চোররা। শুরুতে কয়েকদিন কেউ কোনো কথা না বললেও সপ্তাহখানিক পরে স্যার চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিনের চতুর্থ স্ত্রী উনার কাছে একটি ফোনকল আসে। চোররা তার তাছে মৃতদেহ ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে লক্ষ সুইস ফ্রাঙ্ক দাবি করে। কবর চোররা তো খুশি মনে ভেবেছিল এমন পারফেক্ট পরিকল্পনা আর হয় না, উনা এবার টাকা না দিয়ে যাবে কোথায়? কিন্তু তাদের অবাক করে দিয়ে সদ্য বিধবা লেডি উনা চ্যাপলিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “চার্লি এসব শুনলে প্রচণ্ড বিরক্ত হতো।
জালিয়াতচক্রকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যে মুক্তিপণ নিয়ে হাজির হওয়ার সাজানো নাটক করে স্থানীয় পুলিশ। কিন্তু সতর্ক চোররা আগে থেকেই তা টের পেয়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবে চোর আর পুলিশ উভয়পক্ষই সমান নাছোড়বান্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে ইঁদুর-বেড়াল খেলা চলতে থাকে আরও কিছুদিন। মে মাসে কবর চোরদের কাছ থেকে আরেকটি ফোনকল আশা করছিল পুলিশ, কাজেই তারা চ্যাপলিনের বাড়ির ফোনটি আগে থেকেই ট্যাপ করতে থাকে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আশপাশের আরও প্রায় ২০০টি ফোনবুথও নজরবন্দী করে তারা।

কাজেই শেষপর্যন্ত যখন চোরদের ফোনকল এলো, খুব সহজেই তা ট্রেস করে পুলিশ। রোমান ওয়ার্ডাস এবং গ্যান্সকো গানেভ নামক দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পেশায় তারা দুজনই মোটর মিস্ত্রী। পুলিশকে তারা পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় কবরস্থান থেকে মাইল দশেক দূরের একটি ভুট্টাক্ষেতে, এখানেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল চ্যাপলিনের চুরি করা মৃতদেহ। চ্যাপলিনকে উদ্ধার করে দুই চোরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। চুরির মূল হোতা হিসেবে রোমানের সাজা হয় চার বছরের কারাদণ্ড, আর তার সহকারী হিসেবে গ্যান্সকোকে ভোগ করতে হয় ১৮ মাসের কারাবাস। চ্যাপলিনকে আবারও আগের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে এবার কবরের চারপাশে কংক্রিট দিয়ে শক্ত প্রাচীর তৈরি করে দেয়া হয় যাতে আবারও কেউ তার চিরনিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে।

. টমাস পাইন
টমাস জেফারসনের যুগান্তকারী রাজনৈতিক আইডিয়াগুলো শোনার সৌভাগ্য আমাদের অনেকেরই হয়নি। তবে আব্রাহাম লিঙ্কন, বার্ট্রান্ড রাসেল বা ক্রিস্টোফার হিচেনের সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার বদৌলতে টমাস পাইনের কথা টুকটাক সবাই জানেন।দ্য এইজ অফ রিজন, ‘কমনসেন্সএবংদ্য রাইটস অফ ম্যানবইগুলোর জন্য তিনি স্বাধীন আমেরিকার ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক বিপবের অগ্রদূত হিসেবে পরিগণিত হন। সে যা- হোক, ১৮০৯ সালে সঙ্গি-সাথীহীন অবস্থায় একেবারে একা একা মারা যান পাইন। সমাজের প্রধান প্রচলিত ধর্মগুলো নিয়ে অবিরাম ঠাট্টা করার কারণে একপ্রকার একঘরে করে দেয়া হয়েছিল তাকে। সে অবস্থায় একাকী, নিভৃতে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন তিনি।
কিন্তু তা- বলে তার যে কোনো ভক্ত ছিল না, তা কিন্তু নয়। পাইন মারা যাওয়ার দশ বছর পরে উইলিয়াম কোবেট নামক এক মৌলবাদী সাংবাদিক চলে আসে পাইনের কবর খুঁজে বের করতে। নিউ ইয়র্কের নিউ রোচেল থেকে কবরটি খুঁজে বের করে সে। এভাবে অযত্নে-অবহেলায় শুয়ে আছে তার আদর্শ, এই দৃশ্য সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। কাজেই কবর খুঁড়ে তার নায়কের অবশিষ্ট হাড়গোড়গুলো ব্যাগে ভরে সাথে করে ইংল্যান্ডে নিয়ে যায় কোবেট। তার ইচ্ছে ছিল পাইনের মৃতদেহ যথাযথ সম্মানের সাথে তার বাড়িতে দাফন করার। কিন্তু বেচারার সেই ইচ্ছে কখনোই সফল হয়নি। কোবেট প্রায় দুই দশক ধরে বিদ্রোহী লেখকের হাড়গোড়গুলো নিজের সাথে নিয়ে ঘুরছিল। কিন্তু তারপর একদিন নিজেই মারা যায় কোবেট আর তার সাথে হারিয়ে যায় পাইনের শেষ চিহ্ন। এর পরের বছরগুলোতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন পাইনের অবশিষ্টাংশ তার কাছে আছে বলে দাবি করেছেন, কিন্তু কোনোটিই শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। একসময়কার দাপুটে লেখক এখন বিরামহীনভাবে কোথায় আছেন, তা হয়তো জানার আর কোনো উপায় নেই।

. ট্যাসোস পাপাড্যুপুলোস
২০০৮ সালে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সাইপ্রাসের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ট্যাসোস পাপাড্যুপুলোস। তার মৃতদেহ দাফন করা হয় রাজধানী শহর নিকোসিয়ার পার্শ্ববর্তী ডেফটেরা গ্রামের একটি সমাধিক্ষেত্রে। সেখানে প্রায় এক বছর ছিল মৃতদেহটি, প্রেসিডেন্টের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর আগের দিন পর্যন্ত। ২০০৯ সালের ১১ ডিসেম্বর, ট্যাসোসের সাবেক এক দেহরক্ষী সাইপ্রাসের রীতি অনুযায়ী প্রতিদিনের মতো তার কবরে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসে। প্রতিদিনকার ঘাসের কার্পেটের বদলে এদিন তার চোখে পড়ে বিশাল একটি কালো গর্ত আর মাটির উঁচু ঢিবি। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেহরক্ষী জানায়, কবরের অবস্থা দেখেই সে বুঝতে পেরেছিল ভেতরে আর তাদের প্রিয় প্রেসিডেন্টের লাশটি নেই। চুরি হয়েছে মৃতদেহটি।


এর প্রায় তিন মাস পরে মুক্তিপণের দাবি জানিয়ে ফোন করে কবর চোররা। সেই ফোনকলের সূত্র ধরে নিকোসিয়ারই আরেকটি সমাধিক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা হয় ট্যাসোসের মৃতদেহ। চোরদের গ্রেপ্তার করার পর বের হয়ে আসে আরেক ভয়ঙ্কর কাহিনী। খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদী তার ভাইকে দিয়ে চুরি করিয়েছিল প্রেসিডেন্টের মৃতদেহ। তাদের পরিকল্পনা ছিল মৃতদেহটিকে জিম্মি করে খুনিকে জেল থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করবে সরকারকে। কিন্তু বিধি বাম! তাদের তৃতীয় এক সহযোগী, এক ভারতীয় নাগরিক, এখান থেকে তার কোনো ফায়দা হচ্ছে না টের পেয়ে সোজা ট্যাসোসের পরিবারকে ফোন করে বসে। রয়টার্সের কাছে দেয়া বিবৃতিতে এমনটাই জানায় সে। সাইপ্রাসে মৃতদেহ চুরি করা বেআইনি কাজ বলে খুনির দুই সহকারীকে দুবছর করে জেল খাটতে হয়। আর খুনির যে সাজা এক ফোঁটাও কমেনি তা বলাই বাহুল্য।

. আলেকজান্ডার টার্নি স্টুয়ার্ট
উনবিংশ শতাব্দীর বিজনেস টাইকুন আলেকজান্ডার টার্নি স্টুয়ার্টকে এখন আমরা না চিনলেও তার সময়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তার মৃতদেহ চুরি করার জন্য চোররা যে মুখিয়ে থাকবে, সেটা তো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চোররা নিজেরাও বোধহয় ভাবতে পারেনি তাদের প্রতি ভাগ্যদেবতা এতটা সুপ্রসন্ন হবেন। গল্প-উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মতোই ছিল স্টুয়ার্টের জীবন। আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ডে এসে টিনজাত শুকনো খাবারের ব্যবসা শুরু করে খুব শীঘ্রই ইতিহাসের অন্যতম সেরা ধনীদের তালিকায় নাম লেখান তিনি।
১৮৭৬ সালে, স্টুয়ার্টের মৃত্যুর ঠিক দুবছর পরে, নিউ ইয়র্ক শহরের সেন্ট মার্ক চার্চের কবর থেকে চুরি হয়ে যায় তার শরীরটি। চোররা দাবি করে বসে ২০ হাজার ডলার, এখনকার সময়ে তা কম করে হলেও লাখ ডলারের সমান। পুলিশ আর গোয়েন্দারা মিলে অনেক চেষ্টা করেও চোরদের ধরার কোনো উপায় বের করতে না পারলে শেষমেশ তাদের চাহিদা মোতাবেক মুক্তিপণ দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্টুয়ার্টের পরিবার। অবশ্য কথা রেখেছিল কবর চোররা। টাকার বিনিময়ে স্টুয়ার্টের কঙ্কাল, অন্তত একটি মরা মানুষের কঙ্কাল, ফেরত পায় তার পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে পুনরায় সমাহিত করা হয় এই বিজনেস টাইকুনকে।

. ভাক্কাড়ের গোরখাদকেরা
এতক্ষণ আমরা যাদের কথা জানলাম, তারা নিজেরা বিখ্যাত ছিলেন বলে কবরচোররা তাদের শবদেহ নিয়েও টানাহ্যাঁচড়া করতে ছাড়েনি। আর এখন আমরা যাদের কথা জানব, তারা লাশ চুরি করে বিখ্যাত হয়েছে বলেই এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। বলা হচ্ছিল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ভাক্কাড় এলাকার গোরচোর আর গোরখাদক দুই ভাইয়ের কথা। কবর খুঁড়ে লাশের অবশিষ্টাংশ খুবলে খাওয়ার অপরাধে দুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের। কবর থেকে লাশ চুরি করার অপরাধে মুহাম্মদ আরিফ এবং ফারমান আলী নামক দুই ভাই ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো দুবছরের জন্য জেল খাটে। তাদের বাড়িতে স্যুপের বাটিতে মানুষের হাড় সমেত ছবি প্রকাশিত হয়দ্য ইনডিপেন্ডেন্টপত্রিকায়।

২০১৪ সালের এপ্রিলে পুলিশ আবারও তাদের গ্রেপ্তার করে। এবার তাদের বাড়ি থেকে মানুষ পচা গন্ধ বের হচ্ছিল বলে পুলিশকে খবর দেয় প্রতিবেশিরা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যানুযায়ী, পুলিশ তাদের দুই ভাইয়ের বাড়ি থেকে একটি বাচ্চার মাথা উদ্ধার করে। সে অপরাধের জন্য ১২ বছর জেল খাটছে তারা।